মিষ্টি মূহুর্ত [১]

লেখক :— a-man & বিচিত্রবীর্য
Typist :— বিচিত্রবীর্য

সাবধান / সাবধান সাবধান
এই গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্লট, স্থান , কাল, ঘটনা লেখকের মস্তিষ্ক প্রসূত। বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই। যদি কোন ব্যাক্তির সাথে মিলে যায় তাহলে সেটা নিছকই কাকতালীয়। মিষ্টি মুহুর্ত গল্পটি প্রতিশোধ সিরিজের দ্বিতীয় গল্প।

প্রথম পর্ব

সময়টা বসন্তকাল । কিছুদিন আগেই শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব হয়ে গেছে। সোসাইটির ভিতরে বাচ্চাদের জন্য যে ছোট পার্ক টা আছে সেখানে বিভিন্নরকমের ফুল ফুটে আছে। গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে । আর গাছের ফুলের গন্ধ আশেপাশের সবার মনকে স্থির শান্ত বিভোর করে তুলছে। শুধু বাগানে নয় ! মানুষের মনেও বিভিন্ন ফুল ফুঁটে তাদের ভিতরটা সুবাসে ভরিয়ে তুলছে। শান্ত শীতল হাওয়া বইছে চারিদিকে ।

কলকাতা শহরের একটি অতি প্রাচীন সোসাইটির ভিতরে পাঁচটা বিল্ডিং আছে। তার মধ্যে একটা তিন তলার বিল্ডিং এর সবথেকে উপরের তলায় একটা ফ্ল্যাটে সপরিবারে কোথাও একটা যাওয়ার তোড়জোড় চলছে।

“ কই গো ! তোমার হলো ? ওদিকে ভিজিটিং আওয়ার্স শেষ হয়ে গেলে যে নার্সিংহোমে ঢুকতে দেবে না তো ! „ একটা নিল সাদা ডোরাকাটা শার্ট পড়তে পড়তে তার স্ত্রীকে তাড়া দেয় সমরেশ বাবু।

“ হ্যাঁ হয়ে গেছে । চলো । তুমি সুমি কে নিয়ে নিচে নামো , আমি সুচিকে নিয়ে ঘরে তালা দিয়ে নামছি। „ আয়না থেকে একটা লাল টিপ নিয়ে কপালে লাগাতে লাগাতে বললেন সুচেতা দেবী।

সমরেশ বাবু তার বড়ো মেয়েকে নিয়ে বিল্ডিং এর তিন তলা সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামলেন ।

সুচেতা দেবী একটা হালকা সবুজ রঙের শাড়ী পড়ে তার ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘরে ভালো করে তালা দিলেন আর দেখে নিলেন পাশের ফ্ল্যাটটাতেও তালা দেওয়া আছে।

ওইটুকু মেয়ে সিঁড়ি ভাঙতে গেলে সময় চলে যাবে। তাই সুচিকে কোলে করে নিয়ে নিচে নামলেন। পাথরের ইট বিছানো রাস্তায় হেঁটে সোসাইটির বাইরে এসে তিনি দেখলেন তার স্বামী রহমত চাচার সাথে কথা বলছেন। সুচেতা দেবী স্বামীর কাছে যেতেই রহমত চাচার একটু হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন “ ভালো আছো তো বৌমা ? „

“ হ্যাঁ চাচা । আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো ? „ মুখে হাঁসি নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন সুচেতা দেবী।

“ খোদার রহমতে বেশ সুস্থ আছি। „ ষাটোর্ধ্ব রহমত চাচা এই সোসাইটির দারোয়ান। দিনের বেলায় ডিউটি করেন। রাতে অন্যজন আসে। আর এই সোসাইটির ভিতরেই একটা ছোট ঘরে থাকেন।

সুচেতা দেবী স্বামীর দিকে ঘুরে বললেন । “ বলছি ! বাস না ধরে , ট্যাক্সি ধরো না ! „

“ ট্যাক্সি তো অনেক টাকা ভাড়া নিয়ে নেবে !! তবুও চলো। আজকে খুশীর দিন। „ বললেন সমরেশ বাবু।

পাশেই কিছুদূরে একটা ট্যাক্সি ছিল । সমরেশ বাবু ট্যাক্সিটার পিছনের সিটে গিয়ে উঠলেন সপরিবারে। ড্রাইভার কে বললেন নার্সিংহোম যেতে। কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার পাশে ভালো একটা দোকান দেখে লেবু , আপেল , কলা , ডালিম কিনলেন সমরেশ বাবু । রাস্তায় সুচেতা দেবী তার ছোট মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন “ কিরে ! সকাল থেকে চুপচাপ আছিস। তোর ভাইকে দেখতে যাচ্ছি। মুখে হাঁসি নেই কেন তোর ?

সকালে যখন শুনলো তার কাকির ছেলে হয়েছে তখন থেকেই মুখ ফুলিয়ে বসে আছে সুচি । ছোট্ট মেয়েটা কি করে বোঝায় সবাইকে ! ওর যে ভাই চাই না। ওর এক মাসতুতো ভাই আছে । সে শুধু মারে। তাই ওর ভাই চাই না।

সুচি এক লাল টুকটুকে ফ্রগ পড়ে আছে । সে মায়ের কোলে বসে রাস্তা দেখতে দেখতে যেতে লাগলো। কত লোক ! কত গাড়ি ! কত বড়ো বড়ো বাড়ি। কতো দোকান। আবার রাস্তায় ট্রেনও চলছে। ট্রেন সে চেপেছে তবে একবার। এইসব দেখতে দেখতে তারা নার্সিংহোম পৌঁছে গেলেন । নার্সিংহোমে পৌঁছে তারা একটা নার্স কে জিজ্ঞেস করে উপরে উঠে গেলেন। উপরে উঠে দেখলেন বাইরে করিডোরে দাঁড়িয়ে ছয় ফুটের শুভাশীষ বাবু একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলছেন। তার পড়নে আছে কালো রঙের কোর্ট প্যান্ট।

“ বৌমা কেমন আছে ? আর তোমার ছেলে ? „ শুভাশিস বাবুর সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন সুচির বাবা।

“ হুমম । দুজনেই ভালো আছে। ভিতরে যাও । „ গম্ভীর আওয়াজে কথাটা বলে আঙুল দিয়ে পাশের একটা রূম দেখিয়ে দিলেন শুভাশিস বাবু ।

ঘরে ঢুকে সমরেশ বাবু আর সুচেতা দেবী স্নেহা দেবীর কাছে গেলেন। স্নেহা দেবী বেডে হেলান দিয়ে বসে আছেন আর পাশে একটা দোলনায় ছোট্ট পুত্র সন্তান ঘুমাচ্ছে। সুমি আর সুচি দৌড়ে দোলনায় কাছে চলে গেলো

“ এই আশার সময় হলো তোমাদের !! „ অভিমানি গলায় বললেন স্নেহা দেবী।

“ কি করবো বলো ! আসতে একটু দেরি হয়ে গেল। „ ঠোঁটে একটু হাঁসি নিয়ে স্নেহা দেবীকে ফলের ব্যাগটা দিয়ে বললেন সমরেশ বাবু।

“ এসব আবার আনলে কেন ? কালকেই তো বাড়ি ফিরবো !!

“ কাল পর্যন্ত অনেক সময় , ততক্ষণ এগুলো খেও। এখন কেমন আছো ? „ জিজ্ঞেস করলেন সুচেতা দেবী।

“ আমি আর আকাশ দুজনেই ভালো। ওর নাম আকাশ রেখেছি। „ মুখে তাঁর এক আলাদা সুখ লেগে আছে। মা হওয়ার সুখ।

“ বাহ্ বেশ সুন্দর নাম। „ বলে তারা দোলনার দিকে গিয়ে ভিতরের ছয় সাত ঘন্টা বয়সের আকাশকে দেখতে লাগলো। ছোট্ট গোলগাল চেহারা। মাথায় চুল নেই। ঘুমাচ্ছে বলে চোখ বন্ধ। গাল টকটকে লাল। তারপর সুচেতা দেবী ঘুমন্ত আকাশকে কোলে তুলে নিয়ে তার দুই কন্যাকে দেখিয়ে বললেন “ তোদের ভাই হয়েছে । কেমন বল ? „

“ আমাল ভাই চাই না । „ বলেই ফেললো সুচি।

“ তাহলে !!! „

“ ভাইয়েলা বদ্দ মালে। আমাল বন্দু চাই। „ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো সুচি।

বেডে হেলান দিয়ে বসে থাকা স্নেহা দেবী মিষ্টি মাখা গলায় , আদরের সুরে বললেন “ ঠিক আছে । আজ থেকে আকাশ তাহলে তোমার বন্ধু । „

কথাটা শুনে সুচি খুব খুশি হলো। সে আবার মায়ের কোলে থাকা ঘুমন্ত আকাশ কে দেখতে লাগলো। ঘুমিয়ে আছে আকাশ। কি মিষ্টি দেখতে। আকাশের এই মিষ্টি মুখটা দেখতে বেশ ভালো লাগলো সুচির।

তখন শুভাশীষ বাবু রুমে ঢুকে স্নেহা দেবীর বেডের পাশে রাখা একটা চেয়ারে বসলেন। সুচেতা দেবী আবার কোলের আকাশকে দোলনায় রেখে দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন “ কাল কখন বাড়ি ফিরছো ? „

শুভাশীষ বাবু গম্ভীর আওয়াজে বললেন “ ডাক্তার বললো কাল সকালে যেতে পারবো । „

সমরেশ বাবু মাথা দোলালেন কথাটা শুনে। তারপর আরো কিছুক্ষণ থেকে কথাবার্তা বলে তারা বাস ধরে চলে এলেন। বাসে শুধু সুচেতা দেবী বসার জায়গা পেলেন তাই তিনি দুই মেয়েকে কোলে নিয়ে বসলেন। আর সমরেশ বাবু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরলেন। আজ সুচি খুব খুশি। জীবনে প্রথম বন্ধু হয়েছে তার ।

তখন সবে জওহরলাল নেহেরু মারা গেছেন । সেই সময়েই কলকাতার ভিতরে এই সোসাইটি বানানো হয়। মোট পাঁচটা বিল্ডিং। প্রত্যেকটির নাম পঞ্চ পান্ডবদের নামে রাখা হয়। এই কংক্রিটের প্রাণহীন মহানগরীতে তখনও কিছু প্রাণ অবশিষ্ট ছিল। এদিক ওদিকে বেশ কিছু গাছ , পাখির দেখা পাওয়া যেত।

দেবাশীষ বাবুর বয়স সাতাশ কি আঠাশ হবে । তিনি সরকারি চাকরি পাওয়ার পর গ্রামের ঘর বাড়ি ছেড়ে এই মহানগরী তে চলে আসেন। শোনা যায় তার আপনজন তেমন কেউ ছিল না। আর এদিকে জ্ঞাতি গোষ্ঠির কলহের জন্য এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করে গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে বত্রিশ বছরের বিশ্বজিৎ বাবু এই কলকাতা মহানগরী তে চলে আসেন। দেবাশীষ বাবু আর বিশ্বজিৎ বাবু দুজনেই এই সোসাইটির অর্জুন ভবনের উপরের তলায় দুটো ফ্ল্যাট কেনেন। পাশাপাশি থাকার সুবাদে তখন থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব। দেবাশীষ বাবু সরকারি কাজে মোটা বেতন পেতেন। আর বিশ্বজিৎ বাবু সামান্য একটা খবরের কাগজের প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করতেন । নাম বিশ্বজিৎ হলেও বিশ্ব জয় করার কোন আকাঙ্খাই তিনি পোষণ করতেন না।

বিশ্বজিৎ বাবু গ্রাম থেকেই বিয়ে করে কলকাতায় এসে উঠেছিলেন । বিশ্বজিৎ বাবুর সহধর্মিণীর নাম ছিল রাধারানী দেবী। রাধারানী দেবীর শরীর খুবই দুর্বল প্রকৃতির ছিল । মাসের তিন সপ্তাহেই কোন না কোন ব্যাধিতে ভুগতেন। এখানে আসার দু বছরের মধ্যেই তার প্রথম ও একমাত্র সন্তান হয়। তার নাম সমরেশ তালুকদার। সমরেশ পড়াশোনায় ভালো , সৎ , মাঝারি উচ্চতার, হাল্কা শ্যাম বর্ণের একজন দায়িত্ববান ছেলে।

বিশ্বজিৎ বাবু দেবাশীষ বাবুর থেকে বছর পাঁচেক বড়ো ছিলেন। দেবাশীষ বাবু খুবই বিচক্ষন , পরিশ্রমী ও কর্মঠ ছিলেন। যতদিন দেবাশীষ বাবু অবিবাহিত ছিলেন ততদিন তিনি বিশ্বজিৎ বাবুর সংসারেই খাওয়া দাওয়া করতেন। বিশ্বজিৎ বাবুর স্ত্রী রাধারানী দেবী দেবাশীষ বাবুকে ভাইয়ের মত স্নেহ করতেন। সরকারি চাকরি করে তিনি বেশ ভালো টাকা জমিয়ে বিয়ে করলেন। দেবাশীষ বাবুর স্ত্রী সুনীতা দেবী কলকাতার মেয়ে। দেখতে সুন্দরী , ফর্সা , একটু লম্বা ছিলেন। দেবাশীষ বাবুর সাথে মানানসই উচ্চতার। তিনি পড়াশোনা ভালো করে করলেও অনেকটা প্রাচীন পন্থি ছিলেন। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান জন্মায়। নাম শুভাশীষ মিত্র। শুভাশীষ লম্বা চওড়া গৌড় বর্ণের সৌম্যকান্তি ছেলে। পড়াশোনায় সমরেশ বাবুর মতো ভালো ছিলেন না। কিন্তু খুব বিচক্ষণ , বুদ্ধিমান ব্যাক্তি।

দেবাশীষ বাবুর বিয়ের পর তাঁর স্ত্রী সুনীতা দেবী আর বিশ্বজিৎ বাবুর স্ত্রী রাধারানী দেবীর মধ্যে দিদি বোনের সম্পর্ক ছিল। ছেলেকে জন্ম দেওয়ার পাঁচ ছয় বছরের মধ্যেই রাধারানী দেবী কোন এক দূরারোগ্য ব্যাধিতে দেহ রেখে ছিলেন। দেহ রাখার আগে সুনীতা দেবী কে বলে গেছিলেন সমরেশ কে দেখতে। সুনীতা দেবী দেখেছিলেন। তখন থেকেই সমরেশ বাবু সুনীতা দেবীর কাছে মানুষ। দুইজনের সংসারে খরচা কম। তাই বিশ্বজিৎ বাবু তাঁর ছেলেকে বেশ ভালো স্কুল কলেজে পড়াতে পেরেছিলেন।

সুনীতা দেবী এবং দেবাশীষ বাবু বিশ্বজিৎ বাবু কে অনেক বুঝিয়েছিলেন আর একটা বিয়ে করার জন্য। কিন্তু তিনি আর বিয়ে করেন নি ।

এদিকে সমরেশ বাবু সুনীতা দেবীর কাছেই মানুষ হলেন । সমরেশ বাবু সুনীতা দেবী কে ছোটমা বলে ডাকতেন। তাঁর আর শুভাশীষ বাবুর বয়সের পার্থক্য তিন চার বছর। একসাথেই বড়ো হয়েছিলেন এবং একই স্কুলে পড়ার জন্য এরা ছোটবেলা থেকেই বন্ধু।

হাতে বেশ কিছু টাকা জমে যাওয়ার পর দেবাশীষ বাবু সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যাবসা শুরু করেন। Import & Export এর। দেবাশীষ বাবু ছিলেন খুবই বিচক্ষন , পরিশ্রমী ও কর্মঠ । তাই তাঁর ব্যাবসা ফুলে ফেঁপে উঠতে বেশি সময় লাগে নি। ব্যাবসা ফুলে ফেঁপে ওঠার পর দেবাশীষ বাবু পেয়েছিলেন অঢেল টাকা প্রতিপত্তি আর সাথে বেশ কিছুটা অহংকার। তাই তিনি এই ছোট তিনটে ঘরের ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্য জায়গায় নিজের বাড়ি কিনে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুনীতা দেবী সমরেশ বাবুর মুখ চেয়ে এই বাড়ি ছেরে যেতে রাজি হননি।

সমরেশ বাবুর যখন পঁচিশ বছর বয়স তখন প্রিন্টিং প্রেসে একটা দুর্ঘটনায় বিশ্বজিৎ বাবু বিছানা নিলেন । একমাত্র ইনকাম সোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমরেশ বাবু কে একটা পনের হাজারের সরকারি পিওন এর চাকরি করতে হয় । একরকম বাধ্য হয়েই সমরেশ বাবুকে বিয়ে করতে হতো। তা তিনি করেছিলেনও । নাম সুচেতা দেবী। স্বামীর থেকে এক বছরের ছোট সুচেতা দেবী একটু মোটা ও শ্যাম বর্ণ , পরের সেবায় নিয়োজিত একজন মহিলা। শশুর যতদিন বেঁচে ছিলেন তিনি তাকে নিজের বাবার মতোই সেবা করেছিলেন। তারপর তাদের প্রথম কন্যা সন্তান জন্মায়। নাম সুমি ওরফে সুমিত্রা তালুকদার। সুমির স্বভাব পুরো ওর বাবার মতো। পড়াশোনায় ভালো, শান্ত , চুপচাপ , ভদ্র, স্বল্পভাষী মেয়ে। দাদু তাঁর নাতনি কে খুব ভালোবাসতেন। সুমিত্রার জন্মের চার পাঁচ বছরের মধ্যেই বাষট্টি বছর বয়সে বিশ্বজিৎ বাবু দেহ রাখলেন। ঠিক তখনই সুচেতা দেবী আর এক কন্যা সন্তানকে জন্ম দিলেন। তার নাম সুচি ওরফে সুচিত্রা। সুচিত্রার স্বভাব নাকি পুরো মায়ের মতো। তার মা সুচেতা দেবী নাকি ছোটবেলায় খুবই দুরন্ত , ডানপিটে , রাগী , একরোখা মেয়ে ছিলেন। সেই স্বভাব তাঁর ছোট মেয়ে পেয়েছে। দাদু তাঁর ছোট নাতনির মুখ দেখে যেতে পারেন নি।

এদিকে দেবাশীষ বাবু তার ছেলের বয়স আঠাশ কি উনত্রিশ হতেই স্নেহা দেবীর সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন । স্নেহা দেবী আধুনিক সুন্দরী রমনী। ইনিও শাশুড়ির মতোই প্রাচীন পন্থি । শোনা যায় শেষ জীবনে দেবাশীষ বাবু একটু বেশিই অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন। সুনীতা দেবী এটা সহ্য না করলেও স্বামীকেই ভগবান ভেবে কখনো কিছু বলেন নি। স্নেহা দেবী যখন তিন চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা তখন এক রোড একসিডেন্টে দেবাশীষ বাবু আর সুনীতা দেবী মারা গেলেন। একমাত্র নাতির মুখ দেবাশীষ বাবু আর সুনীতা দেবী কেউই দেখে যেতে পারেন নি। এই জন্য স্নেহা দেবী খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন।

শশুড় শাশুড়ির হঠাৎ মৃত্যু তে খুব ভেঙে পড়েছিলেন স্নেহা দেবী। সুচেতা দেবী তখন থেকেই অন্তঃসত্ত্বা স্নেহা দেবীর যত্ন নিতেন যতদিন না ডেলিভারির তারিখ আসে। তারপর এই গত কাল সকালে স্নেহা দেবী আকাশ কে জন্ম দিলেন। দুবারই মেয়ে সন্তান হওয়ায় কিছুটা হলেও দুঃখ পেয়েছিলেন সমরেশ বাবু। তাই বন্ধু শুভাশীষ বাবুর ছেলে হওয়ার খবর শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। আর সেই খুশিতেই তাঁরা সপরিবারে গতকাল ছোট্ট আকাশ কে দেখতে গেছিলেন।

এখন সমরেশ বাবুর বয়স তেত্রিশ কি চৌত্রিশ আর শুভাশীষ বাবুর বয়স ত্রিশ। দুজনেই ঠিক ত্রিশ বছর বয়সেই নিজের বাবাকে হারিয়েছেন।

আজ সকাল দশটা পনেরোর দিকে রহমত চাচা সোসাইটির বড়ো লোহার গেট টা খুলে দিলেন। আর তার সাথে সাথেই ঢুকলো আকাশদের নিল রঙের Rover Group এর Austin Maestro । পাথর বিছানো রাস্তা ধরে অর্জুন ভবনের সামনে এসে শুভাশীষ বাবু গাড়ি থামালেন। তারপর নেমে পাশে বসে থাকা স্নেহা দেবীকে ধরে বাইরে আনলেন। এবং খুব যত্ন করে আস্তে আস্তে সিড়ি ভেঙে উপরে উঠে এলেন। সুচেতা দেবী ততক্ষণে বড়ো মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে চলে এসছেন।

সুমিত্রার বয়স আট। দেখতে বেশ সুন্দর । কিন্তু ফর্সা না আবার শ্যাম বর্ণো বলা যায় না । ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল আর চার ফুট উচ্চতার শান্ত শিষ্ট মেয়ে। সে পাশেরই একটা মর্নিং স্কুলে ক্লাস থ্রি তে পড়ে। পড়াশোনায় খুব ভালো। এতোটাই ভালো যে বাবা মায়ের সন্দেহ একদিন সুমিত্রার চোখে চশমা পড়বে।

সমরেশ বাবু ঘুম থেকে উঠে সাতটার দিকে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসেন। তারপর বাড়ি ফিরে গোঁফ দাড়ি কেটে , স্নান করে , খবরের কাগজ পড়ে , খেয়ে দেয়ে সাড়ে নটা বাজলেই অফিসে চলে যান । পাশেই অফিস , কুড়ি মিনিট সময় লাগে যেতে। একটা বাস ধরলেই পৌছিয়ে দেয় । সুচেতা দেবী সাড়ে দশটার দিকে ঘরে তালা দিয়ে সুচিকে নিয়ে সুমিকে আনতে যান। এটাই হলো এই পরিবারের দৈনন্দিন সূচি।

আজকেও তার ব্যাতিক্রম হলো না। সুচেতা দেবী ঘরে তালা দিয়ে সুচিকে নিয়ে চলে গেলেন সুমিকে আনতে। সুমিকে নিয়ে সোসাইটিতে এসেই দেখলেন নিচে আকাশদের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সুচেতা দেবী মনে মনে ভাবলেন — তাহলে ওরা হয়তো চলে এসেছে।

দুই দিন অফিসে যেতে পারেন নি বলে শুভাশীষ বাবু স্নেহা দেবীকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়ে স্নান করে , কোট প্যান্ট পড়ে অফিস চলে যাচ্ছিলেন । সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় সুচেতা দেবীর সাথে দেখা। শুভাশীষ বাবু সুচেতা দেবীকে দেখে বললেন “ বৌদি ! দুই দিন কাজে যেতে পারি নি। ওদিকে কি হচ্ছে কিছুই জানি না। তাই বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে। তুমি স্নেহা আর আকাশকে দেখো একটু। „

সুচেতা দেবীকে প্রতুত্বরে কিছু বলতে দেওয়ার আগেই সুভাশীষ বাবু ভারী বুটের আওয়াজ করে গটমটিয়ে অফিস চলে গেলেন। সুচেতা দেবী মনে মনে বললেন “ কাজ পাগল ঠিক আছে তবে সংসারের দিকে একটুও খেয়াল নেই ? এ কিরে বাবা ! „ সুচেতা দেবী উপরে উঠে প্রথমে নিজেদের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দিয়ে সুমিকে বললেন “ তুই স্কুলের জামা কাপড় ছেড়ে অন্য জামা পড় । আমি ততক্ষণে তোর কাকি কে দেখে আসি একটু। „ বলে তিনি পাশের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়লেন। দরজা ভেজানো ছিল তাই ঢুকতে কোন অসুবিধাই হলো না।

ঘরে ঢুকতেই সুচি তিরের বেগে দৌড় দিল কাকির ঘরের দিকে। ছোট মেয়ের এই দৌড় দেখে সুচেতা দেবী শাসন করলেন “ এই আস্তে ! মেয়েটা এক জায়গায় স্থির থাকলে হয় ! „ কিন্তু সুচির মায়ের কথায় কান নেই।

স্নেহা দেবী তখন নিজে বিছানার ধারে শুয়ে আকাশকে দেওয়ালের পাশে রেখে শুয়ে ছিলেন। সুচি ঘরে ঢুকেই খাটে উঠে আকাশের পাশে গিয়ে বসে পড়লো। স্নেহা দেবী ভালো করেই জানতেন সুচির দূরন্তপনার কথা। কিন্তু আকাশের প্রতি এতটা আগ্রহ হবে সেটা ভাবতে পারেন নি ।

স্নেহা দেবী সুচিকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু বলার আগেই সুচেতা দেবী ঘরে ঢুকে বললেন দেখো না ! মেয়েটা কাল থেকে জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে আকাশ কখন আসবে ? আকাশ কখন আসবে ? „ তারপর সুচির দিকে ফিরে বললেন “ নে , তোর আকাশ চলে এসছে । „

কিন্তু সুচির সেদিকে হুশ নেই। সে একমনে আকাশকে দেখে যাচ্ছে। স্নেহা দেবী ঠোঁটের কোনায় একটু হাঁসি নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন “ কি দেখছিস রে অমন করে ? „

“ আমাল পুতুলেল থেকেও ছোত্ত । „ কথাটা আকাশের দিকে তাকিয়েই ছোট ছোট দুই হাতের তালু এক জায়গায় করে জোড়া লাগিয়ে বললো সুচি। আকাশ তখন গভীর ঘুমে।

সুচির কথা শুনে স্নেহা দেবী এবং সুচির মা দুজনেই হেঁসে উঠলেন। “এখন কেমন আছো ? „ জিজ্ঞাসা করতে করতে খাটের কিনারে স্নেহা দেবীর পাশে এসে বসলেন সুচেতা দেবী ।

“ আগের থেকে এখন অনেক ভালো । „ ঠোঁটে একটা হাঁসি নিয়ে বললেন স্নেহা দেবী।

শুভাশীষ বাবুর সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়েও চেপে গিয়ে সুচেতা দেবী বললেন “ আমি রান্নাটা করে নিই। „

“ না , না ! তুমি করবে কেন ? „

“ দেখো ! দেখো ! আদিখ্যেতা দেখো ! যেনো আমি আগে করিনি । আর শোনো , আমার রান্না সকালেই হয়ে গেছে । „ বেশ একটা অভিমানি আর রাগি সুরে কথা গুলো বললেন সুচির মা।

ঠিক সেই সময় সুমি স্কুলের জামা পাল্টে একটা ফ্রগ পড়ে ঘরে ঢুকলো। সুচেতা দেবী আর স্নেহা দেবী একসাথে সুমিকে দেখলো। ঠিক সময় সুচি এমন একটা কান্ড ঘটালো যা সুচেতা দেবী আর স্নেহা দেবী কেউই দেখতে পেলেন না। কারন তারা সুমির দিকে তাকিয়ে ছিল।

কিছুক্ষণ থেকেই আকাশ ঘুমের মধ্যেই নিজের ঠোঁট নাড়ছিল । এমন ভাবে নাড়ছিল যেন সে কথা বলছে। আকাশের ঠোঁটের এই কাঁপুনি দেখে সুচির খুব আনন্দ হচ্ছিল , যেনো একটা ঠোঁট নাড়া পুতুল। যে মুহুর্তে সুমি ঘরে ঢুকলো ঠিক সেই মুহুর্তেই সুচি তার ডান হাতের ছোট্ট তর্জনী দিয়ে আকাশের ঠোঁট আরো বেশি নাড়িয়ে দিল। এর ফলে আকাশের ঘুম ভেঙে গেল আর সে ডুকরে চিল্লিয়ে ভ্যাঁ আওয়াজ করে কেঁদে উঠলো।

আকাশের কান্না দেখে সুচিও ঠোঁট উল্টে গাল ফুলিয়ে চোখে জল এনে ফেললো। আকাশের ঠোঁটে আঙুল দেওয়ার জন্য যেন আকাশ সুচিকে বকেছে । তাই এই চোখে জল।

ঘরের বাকি সবাই আকাশের কান্নার আওয়াজ শুনে আকাশের দিকে তাকালেন । তারপর সুচির দিকে। ঘরের সবাই দেখলো আকাশ আর সুচি দুজনেই কাঁদছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারলেন না কি হয়েছে ? সুচির মা সুচিকে জিজ্ঞেস করলেন “ কাঁদছিস কেন রে বোকা মেয়ে ? „

কিন্তু সুচির কোন উত্তর নেই। আকাশের মা আর সুচির মা দুজনেই ভেবে কুল কিনারা পেল না। দুজনেরই মুখে বিষ্ময়ের ছাপ স্পষ্ট। স্নেহা দেবি আকাশকে শান্ত করার জন্য “ আআআআআ , সোনা আমার , কাঁদে না , কাঁদে না , এইতো আমি „ আকাশ কান্না বন্ধ করলো। আকাশ কান্না বন্ধ করেছে দেখে সুচিও নিজের ঠোঁট আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলো । সুচেতা দেবী মেয়ের কান্না থেমেছে দেখে একটু ধাতস্থ হলেন।

সুচেতা দেবী ঘরে আসার আগেই আকাশকে বুকের দুধ খাইয়েছিলেন স্নেহা দেবী , তিনি ভাবলেন আকাশের ক্ষিধে লাগেনি। তাই তিনি ছড়া কেটে আকাশকে ঘুম পাড়াতে লাগলেন। আকাশের কান্না বন্ধ হওয়া থেকে ফের ঘুমিয়ে পড়ার মধ্যে সুচিও আবার আগের মতো ঠোঁটে হাঁসি মুখে কৌতুহল নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো।

ততক্ষনে সুমি খাটের উপর উঠে সুচির পাশে বসে পড়েছে। আর দুই বোনই ঘুমন্ত আকাশকে দেখতে শুরু করেছে। আর সুচেতা দেবী সুচির আবার সেই হাঁসি খুশি মুখ দেখে , খাট থেকে উঠে রান্না ঘরে চলে গেলেন । সুচেতা দেবী রান্না করতে লাগলেন আর এদিকে খাটে শুয়ে স্নেহা দেবী ছড়া গেয়ে আকাশ কে ঘুম পাড়াতে লাগলেন।

ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি
মোদের বাড়ি এসো,
খাট নাই পালং নাই
খোকার চোখে বসো।
বাটা ভরে পান দিবো
গাল ভরে খেয়ো,
খোকার চোখে ঘুম নাই
ঘুম দিয়ে যেয়ো।

ছড়া শেষ হতেই স্নেহা দেবী দেখলেন শুধু আকাশ না সুচিও তার সাথে ঘুমিয়ে পড়েছে। স্নেহা দেবী আর সুমি দুজনেই সুচির ঘুম দেখে হেঁসে উঠলো।

রান্না করে দিয়ে, ঘরে ঝাট দিয়ে সুচেতা দেবী ঘুমন্ত সুচিকে নিয়ে চলে গেলেন। মাঝে মাঝে এসে দেখে গেলেন যে স্নেহা দেবীর কিছু লাগবে কি না। আর ভাত তরকারি একটা থালায় বেড়ে দিয়ে গেলেন তিন বেলা। আবার এসে এঁটো থালা বাসন নিয়ে রান্নাঘরে মেজে ধুয়ে রেখে গেলেন।

রাত নটা সাড়ে নটা নাগাদ যখন শুভাশীষ বাবু ফিরলেন তখন তার হাতে কয়েকটা দুই তিন তলা বাড়ির বিভিন্ন স্টাইল কিংবা প্যাটার্নের ব্লুপ্রিন্ট।

শুভাশীষ বাবু জামা কাপড় ছেড়ে স্নান করে বেডরুমে এলেন। এসে ব্যাগ থেকে ব্লুপ্রিন্ট গুলো বার করে খাটে বসে স্নেহা দেবীকে দিয়ে বললেন “ দেখো আর বলো কোনটা তোমার পছন্দ হচ্ছে। সেই মডেলের বাড়ি বানাবো । „

“ তুমি তো Import & Export এর ব্যাবসা করো। আর গাড়ি ভাড়া দাও। বাড়ি বানানোর কাজ কবে থেকে শুরু করলে ? „ কৌতূহল ঝরে পড়ে স্নেহা দেবীর কথায়।

“ আমি নিজেদের বাড়ি বানিয়ে থাকার কথা বলছি । „

“এটাও তো আমাদের বাড়ি ! „

“এর থেকেও বড়ো বাড়ি হবে। নিজেদের বাগান হবে। সেখানে শুধু আমি তুমি আর আকাশ থাকবো। „ বেশ উৎসাহের সাথে কথা গুলো বললেন শুভাশীষ বাবু।

“ আর তোমার মা ? „

শুভাশীষ বাবু কি বলবেন ভেবে পেলেন না। ছয় সাত মাস হলো তার মা সুনীতা দেবী মারা গেছেন। এর মধ্যেই তিনি এই পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। শুভাশীষ বাবুর নিরবতা দেখে স্নেহা দেবী বললেন “ আমি জানি মা এখানেই আছে । মা আকাশ কে দেখে যেতে পারে নি । এখন যদি আমি আকাশকে নিয়ে চলে যাই তাহলে তোমার মার আত্মা খুব কষ্ট পাবে । „

“ এতো শিক্ষিত হয়েও এইসব বিশ্বাস করো তুমি ? „ বেশ বিরক্ত হলেন শুভাশীষ বাবু।

“ বিশ্বাস করলেই বিশ্বাস , না করলে অবিশ্বাস। এই বাড়িতেই তোমার মা বিয়ে করে এসছিলো । আমিও এখানেই বিয়ে করে এসছি । তোমার মা আমাকে নিজের মেয়ে মনে করতো। মার খুব ইচ্ছা ছিল নাতি কে দেখার। আকাশ নামটা তোমার মায়েরই রাখা। মা চেয়েছিল আকাশ বড়ো হয়ে আকাশের মতো বড়ো মন হবে। এখানেই তোমার মায়ের সব স্মৃতি আছে। আর তুমি এই বাড়ি ছেড়েই চলে যেতে চাইছো ? তুমি গেলে যাও । আমি আর আকাশ এখানেই থাকবো। „ বেশ রাগী গলায় এক টানা কথাগুলো বললেন স্নেহা দেবী।

“ তোমাদের রকমসকম বুঝি না আমি। একটা ভালো ঘর বানিয়ে সেখানে সুখে শান্তিতে থাকতে চাইছি ! তাতেই এতো কথা শোনাচ্ছো ! „ স্নেহা দেবীর রাগের কারন বুঝতে পারলেন না শুভাশীষ বাবু ।

“ ঘরে সুখ শান্তি থাকে পরিবারের জন্য। ইট , বালি , সিমেন্ট দিয়ে ঘর হয় না। এখানেই তুমি কতক্ষণ থাকো বলোতো যে নতুন বাড়ি করে সেখানে সুখে শান্তিতে থাকবে ? আর আমাদের রকমসকম বুঝে তোমার কাজ নেই। বৌদি খাবার গরম করে গেছে কিছুক্ষণ আগে। খেয়ে নাও। „ ছেলে জন্মানোর পর থেকেই স্বামীর উপরে রেগে ছিলেন স্নেহা দেবী। স্ত্রী আর সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানকে ছেড়ে কাজের জন্য চলে গেছিল আকাশের বাবা। তাই স্নেহা দেবী এক নিশ্বাসে বেশ রেগেই কথা গুলো বললেন।

স্ত্রীর রাগী গলা শুনে শুভাশীষ বাবু আর কিছু বললেন না। বলবেন কি করে ? তিনি তো ভালোভাবেই জানেন স্নেহা দেবীর মুখের কথা গুলো কতখানি সত্যি। সকাল আটটা নটায় চলে যান আর আসেন রাত নটার পর । আজ সারাদিনে শুধু দুইবার স্নেহা দেবীকে ফোন করেছিলেন আকাশের বাবা। একটা গভীর নিশ্বাস ছেড়ে স্নেহা দেবীর পাশে তার ঘুমন্ত সন্তানকে দেখে রাতের ডিনার খেতে চলে গেলেন শুভাশীষ বাবু ।

স্বামীর চলে যাওয়া দেখতে দেখতে স্নেহা দেবী আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলেন — তার স্বামী এরকম কেন ? কিন্তু অনেক ভেবেও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন না আকাশের মা স্নেহা দেবী।

গল্পটি কেমন লাগলো ?

ভোট দিতে স্টার এর ওপর ক্লিক করুন!

সার্বিক ফলাফল 0 / 5. মোট ভোটঃ 0

এখন পর্যন্ত কোন ভোট নেই! আপনি এই পোস্টটির প্রথম ভোটার হন।

Leave a Comment